বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

বিষয় : শিক্ষা বিভাগ ॥ এমপি নূর মোহাম্মদ মহোদয়ের কাছে খোলা চিঠি-১

রির্পোটারের নাম
  • খবর আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১৯০ এই পর্যন্ত দেখেছেন

প্রিয় নেতা ও জামালপুর-১(দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ)আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ মহোদয় আপনি বিগত ত্রিশ বছরের ইতিহাস পাল্টে দিয়ে জনতার আদালতে মাথার মুকুট হিসেবে ২০২৪ সালের ৭ জানূযারির নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মহান জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ভবিষৎ উন্নয়নের আস্থাশীল প্রতীক আপনি। আপনার হাত ধরেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণ হবে।
সারা বাংলাদেশের মধ্যে জামালপুর জেলায় শিক্ষার হার সবচেয়ে কম। আবার জামালপুরের ৭টি উপজেলার মধ্যে বকশীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষার হার আরও কম। শিক্ষার মানদন্ড খোজঁতে হলে যেতে হবে সাগরের তলদেশে। মান সম্মত সুশিক্ষা ও সুশ্খিার প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান না থাকলে দক্ষ মানব সম্পদ ও সুশিক্ষিত নাগরিক সংকটে পড়বে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাটি। এর প্রভাব জাতীয় পর্যায়েও পড়বে। কাজেই আপনার উন্নয়নের প্রথম ধাপ শিক্ষা বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি।
জামালপুর-১ আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ মহোদয় জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বকশীগঞ্জ উপজেলায় ১৯টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি কলেজ এবং ৩টি মাদরাসা এমপিওভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৩৫টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণ হয়েছে পাকা বহুতল ভবন। ল্যাব প্রতিষ্ঠা হয়েছে ২১টি বিদ্যালয়ে। ৬টি কলেজেরই বহুতল পাকা ভবন রয়েছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলায় মোট কলেজ রয়েছে ৭টি। এর মধ্যে ৬টি কলেজ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এমপিওভুক্ত হয়েছে। ননএমপিওভুক্ত কলেজের সংখ্যা ১টি ।
বকশীগঞ্জ উপজেলায় মোট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ৩৬টি। এর মধ্যে ৬টি বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয়নি। এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩০টি। এমপিওভুক্ত ৩০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টি বিদ্যালয় আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এমপিওভুক্ত হয়েছে। অবশিষ্ট ১১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯৭১ সালের পূর্বে প্রতিষ্ঠা হয়েছে ৭টি বিদ্যালয়। স্বাধীনতার পর ৪টি বিদ্যালয় বিভিন্ন সরকারের আমলে এমপিওভুক্ত হয়েছে। ৬টি কলেজ ও ৩৫টি বিদ্যালয়ের বহুতল আধুনিক পাকা ভবন নির্মাণ হয়েছে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে। ২১টি বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছে ল্যাব। মাদরাসা এমপিওভুক্ত হয়েছে ৩টি। বহুতল আধুনিক পাকা ভবন নির্মাণ হয়েছে ৭টি মাদরাসায়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ৭০৩ জন শিক্ষক চাকুরি করছেন। কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা ১২০ জন। কর্মচারী হিসেবে চাকুরি করছেন শতাধিক লোক। বিদ্যালয় গুলোতে ১৭ হাজার ৪৩১ জন শিক্ষার্থী, মাদরাসায় ৬ হাজার ৫১১জন শিক্ষার্থী ও কলেজে ২ হাজার ৮৯৫ জন শিক্ষার্থী পড়া লেখা করছে। এর মধ্যে ১৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী উপ-বৃত্তির আওতাভুক্ত রয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের পাশাপাশি উপরোক্ত উন্নয়নের অংশিদার সাবেক এমপি জনাব আবুল কালাম আজাদ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ। বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের একজন সুযোগ্য নেতা হিসেবে আপনার অবদানও যথেষ্ট।
বকশীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজ। এ কলেজে বিভাগ অনুযায়ি অনেক শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষের পদও শুন্য। কলেজের নিজস্ব কোন হল বা হোস্টেল নেই। বকশীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে নানান সমস্যা বিদ্যমান। এর মধ্যে শিক্ষক সমস্যা তীব্র। এ স্কুলেও শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুযোগ সুবিধা নেই। বকশীগঞ্জ উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৩৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলেও আজ পর্যন্ত এ স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল হয়নি। সরকারি করণের ফাইল হিমাগারে আটকে আছে। মুক্তির একমাত্র ব্যাক্তি আপনি নিজে। ধানুয়া কামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৬ জন সাবেক ছাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা। এর মধ্যে ৪ জনই খেতাবপ্রাপ্ত বীর প্রতীক। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে ধানুয়া কামালপুর স্কুল সরকারি করণের উদ্যোগের কাজটিও আপনার মাধ্যমেই সফল হওয়া সম্ভব।
বকশীগঞ্জ উপজেলার সকল শিক্ষকদের মান সম্মত প্রশিক্ষন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নার্সিং এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষার মান উন্নয়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আপনার সুদৃষ্টিতেই তা বাস্তবায়ন সম্ভব।
বকশীগঞ্জ উপজেলায় কারিগরি শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে আছে। সরকারের আগ্রহ থাকার পরেও বকশীগঞ্জ উপজেলায় কারিগরি কলেজটি প্রতিষ্ঠা হয়নি। বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা লাভের কোন সুযোগ নেই এ অঞ্চলে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১নং সেক্টরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র বকশীগঞ্জ উপজেলায়। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বকশীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় বা মুক্তিযোদ্ধা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় করার দাবি করছি। আপনার নির্বাচনী এলাকার মানুষের মনে বিশ^াষ আপনি পারবেন। বিশ^াসের জায়গাটার ভিত্তি অনেক শক্ত মনে করেই আপনাকে ভালোবেসে তাদের নেতা নির্বাচিত করেছেন। আশা করি বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা বিভাগে কড়া নজর দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে কর্মের মাধ্যমে জনগণের মাথার মুকুট হিসেবে চিরজীবন স্বারণীয় হয়ে থাকবেন। আমরা আপনাকে কর্মবীর উপাধিতে ভূষিত করতে চাই। জাতির কাছে আপনার পরিচয় হউক শিক্ষাবান্ধব এমপি হিসেবে। আপনার মাধ্যমে পাল্টে যাক শিক্ষার গুনগতমান ও পরিবেশ। সুশিক্ষিত হয়ে উঠুক আপনার নির্বাচনী এলাকার প্রতিজন শিক্ষার্থী।
পত্রে ভুলত্রুটি মার্জনীয়। আপনার সফলতা কামনা করি। মহান আল্লাহ আপনাকে সব সময় ভালো রাখুক। অদৃশ্য শয়তানের কবল মুক্ত রাখুক মহান আল্লাহ। জামালপুর-১ আসনের মাটিতে প্রতিটি ফুল ফুটুক আপনার জন্য। প্রতিটি দিন হউক বরনীয়। সব শেষে নেলসন ম্যান্ডেলার কথা স্বরণ করিয়ে দিয়ে আপনার জন্য শুভ কামনা করে বিদায় নিচ্ছি। পরবর্তীতে তুলে ধরবো অন্য কোন বিষয়। আজ ইতি টানছি। ভালো থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।

এম শাহীন আল আমীন
ভোটার
জামালপুর-১।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
© কপিরাইট ২০১৭ গণজয়
CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102