বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

বকশীগঞ্জে আওয়ামীলীগের মুখোমুখি আওয়ামীলীগ

রির্পোটারের নাম
  • খবর আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২
  • ১৪৩ এই পর্যন্ত দেখেছেন

এম শাহীন আল আমীন ।। শোকের মাসে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদের রাজনৈতিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ গ্রুপ ও এমপি আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গত দুই দিনে দুই দফায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ। সংবাদ সম্মেলনে নূর মোহাম্মদ বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এমপি আবুল কালাম আজাদকে দায়ি করেছেন। অপর দিকে এমপি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেছেন নূর মোহাম্মদের অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

জানা যায়, ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র জামালপুরের বকশীগঞ্জ আওয়ামীলীগের সভাপতি জামালপুর-১ আসনের এমপি প্রার্থী নূর মোহাম্মদ বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামে সফর কর্মসূচী দিয়ে ঢাকা থেকে বকশীগঞ্জে আসেন। বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হলেও ব্যবসায়িক কারণে নূর মোহাম্মদ স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন।

১৪ আগষ্ট নূর মোহাম্মদ বকশীগঞ্জে আসার পর জাতীয় শোক দিবসে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সফর কর্মসূচী ঘোষনা করেন। সফরে অতিরিক্ত লোকজন ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিম প্রশাসন নূর মোহাম্মদের সফর কমূসূচী বাতিলের দাবি জানান। প্রশাসনের পক্ষথেকে বলা হয় জাতীয় শোক দিবসে অতিরিক্ত লোকের শো-ডাউন খুবই বেমানান। এই নিয়ে যে কোন এলাকায় আইন শৃংখলার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তাই দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে নূর মোহাম্মদের কর্মসূচীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ ১৪ আগষ্ট রাত ১০ ঘটিকার সময় দলীয় নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জরুরী সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে জাতিয় শোক দিবসে তার নির্ধারিত কর্মসূচী বাতিলের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নূর মোহাম্মদ সাবেক মন্ত্রী বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদের সমালোচনা করে বলেন তাঁর নির্দেশেই পুলিশ প্রশাসন জাতীয় শোক দিবসে আমার কর্মসূচীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। নূর মোহাম্মদ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি সম্ভাব্য এমপি পদ প্রার্থী। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবো। না দিলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিবো। কিন্তু এমপি আবুল কালাম আজাদ আমার জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়ে আমাকে মাঠে কাজ করতে দিচ্ছে না। তার বাধার কারনে আমি দলীয় কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করতে পারছিনা।
এ কারণে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে বকশীগঞ্জ উপজেলা ক্যাম্পাসে ও মুক্তিযোদ্ধা ভবন ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যায়নি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ। শুধু তাই না প্রশাসনের কোন কর্মসূচীতেই বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা অংশ গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের জাতীয় শোক দিবসের সকল কর্মসূচী বর্জন করে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ।

এই অবস্থায় বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দলীয় কার্যালয়ে অন্যান্য কর্মসূচি পালনসহ বঙ্গবন্ধুর ছবিতে কাগজের মালা দিয়ে শ্রদ্বা জানিয়ে ৩০/৩৫টি মোটর সাইকেলের একটি বহর নিয়ে বকশীগঞ্জ শহর থেকে দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে সফরে বের হন। সফরে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর মোড় ও সাধুরপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন নূর মোহাম্মদ। বাধার মুখে নূর মোহাম্মদ পুলিশের কাছে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচীতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করলে পুলিশ সীমিত সংখ্যক লোক নিয়ে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদানের অনুমতি দেন। কিন্তু নূর মোহাম্মদ সীমিত সংখ্যক লোক নিয়ে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যেতে রাজি না হলে পুলিশ নূর মোহাম্মদকে বাধা দেন। পুলিশের বাধার মুখে নূর মোহাম্মদ জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান করার সুযোগ পাননি।
এই অবস্থায় ১৫ আগষ্ট আবারও দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে জামালপুর জেলার প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ পুলিশি বাধার বিষয়ে বলেন, এমপি আবুল কালাম আজাদের নির্দেশেই পুলিশ আমাকে বাধা দিয়েছে। বাধার বিষয়টি পুলিশের নিজস্ব কাজ না। পুলিশ এমপি কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে আমাকে বাধা দিতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, এমপির জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে। তাই তার পায়ের তলায় মাটি নেই। এ কারণে আমাকে বাধা দিয়ে আমার রাজনৈতিক অধিকার হরণ করছেন। সংবাদ সম্মেলনে নূর মোহাম্মদ ১৭ আগষ্ট ১০ হাজার লোকের উপস্থিতিতে কর্মসূচী পালনের ঘোষনা দেন। এই নিয়ে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় টান টান রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। অলিগলিতে অতিরিক্ত পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

এব্যাপারে পাচঁবারের নির্বাচিত জামালপুর-১ আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, নূর মোহাম্মদ ২০০৮ সালে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন। দলের সিদ্বান্ত মেনে না নিয়ে নৌকার ভরাডুবি করার জন্য উঠেপড়ে লেগে ছিলেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি। এখন নৌকার জন্য মায়া কান্না করছেন। বিগত উপজেলা নির্বাচন ও পৌর নির্বাচনেও নৌকা বিপক্ষে কাজ করে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। সেই নেতা কী করে দলের স্বার্থে কাজ করবেন ? এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেন আগষ্ট মাস শোকের মাস। এ মাসে নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে শো-ডাউন দেওয়ার পরিকল্পনা দলের কোন নিবেদিত নেতা নিতে পারেনা। কারণ দলের নেতা কর্মী ও জাতির পিতার সাধারণ ভক্তরা শোকাহত। তাই শো-ডাউনে দলীয় নেতা কর্মী ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে । সম্ভবত এই বিষয়টি বিবেচনা করে পুলিশ এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে সীমিত লোক নিয়ে চলাফেরার অনুরোধ করে ছিলেন। কিন্তু নূর মোহাম্মদ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধ না মেনে শোকের মাসে বহর নিয়ে চলার চেষ্টা করে আইন অমান্য করেছেন। তাই বাধা গ্রস্থ হয়েছেন। সেখানে আমার কোন ভূমিকা নেই। কারণ স্থানীয় আইন শৃংখলার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকেন। এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেছেন নূর মোহাম্মদের অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
© কপিরাইট ২০১৭ গণজয়
CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102