বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:২৮ অপরাহ্ন

ঢাবিতে চাঞ্চ পেয়েছে বকশীগঞ্জের তিথি

রির্পোটারের নাম
  • খবর আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২
  • ২০৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

।। এম শাহীন আল আমীন।।

আফরিন জিলানী তিথি। তার বয়স যখন দেড় মাস তখন থেকেই তাকে আমি চিনি। তার পরিবারের দুর্দিনের সাথী আমি। উত্তাল সাগরের অনেক বড় বড় ঢেউ সামলাতে বুক ফুলিয়ে দাড়াঁতে হয়েছে। দাড়াঁনোর সৎ সাহস ছিলো। তাই দাড়িয়েছি।

দুই মামা মুকিম বিল্লাহ ও মুক্তাদির বিল্লাহ আফরিন জিলানী তিথির পাশে পিতার মত পাহাড় হয়ে দাড়িঁয়ে থাকতেন। আছেন। থাকবেন। প্রত্যাশাও করি। তিথির বেড়ে উঠা ও সফলতায় দুই মামা তিথিকে চিরঋনের পাশে আবদ্ধ করেছেন। মামাদের তুলনা মামারাই। মামাদের পাশে দাড়ঁ করানোর কোন উদাহরণ আফরিন জিলানী তিথির কাছে নেই।

আফরিন জিলানী তিথি দেড় মাস বয়সেই পারিবারিকভাবে শক্ত ঝাকুঁনির শিকার হয়। অবুঝ ফেরেস্তাসম তিথির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় মোকাবেলায় কেউ পাশে দাড়াঁনোর সাহস পাননি। কারণ অর্থ, বৃত্ত ও প্রতিপক্ষের দাপট।

মনুষত্বের টানেই সে সময় পাশে ছিলাম। কখনও সরে দাড়াইনি। এখনও আছি। তিথির লেখা পড়া থেকে শুরু করে সার্বিক বিষয় আমার মগজে ছিলো। কখনও নামাইনি। মানসম্মত লেখা পড়ার বিষয়ে সিরিয়াসলি জেনে নিতাম। গুনি ও বিজ্ঞ মায়ের মতই সন্তানের জন্য কঠিন পরিশ্রম করেছেন গর্ভধারনী শিক্ষিত মা রওশন আরা রিতা।

তিথির দিনে দিনে দৈহিক বড় হয়ে উঠা ও সফলতার গল্পের ঝুড়ি বেশ বড় হয়ে গেছে। জেএসসিতে টেলেন্টপুলে বৃত্তি, এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর গল্পের ঝুলি এখন নাদুষ নুদুষ। মেডিকেলেও পরীক্ষা দিয়ে ছিলো। মাত্র ২ নম্বর কম পাওয়ায় সুযোগ হাত ছাড়া হয়েছে। তবে হাল ছাড়েনি। দ্বিতীয় সুযোগের প্রস্তুতি চলমান। সফলতার আরও একটি বড় সাফল্য যোগ হয়েছে ৫.০৭.২০২২।

আমি ক্লাশে ছিলাম। ছোট পাঠশারার বড় চিন্তার পাঠ চক্র। হঠাৎ তিথির সুযোগ্য মা রওশন আরা আপার ফোন। রিসিভ করতেই পরিচয় দিয়েই জানালেন একটি বড় সুখবর। মুখভরা হানি নিয়ে জানালেন তার একমাত্র কন্যা আফরিন জিলানী তিথির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঞ্চ পাওয়ার খবর।

বিকালে ভালো কিছু না থাকায় কাঠালের বিচিঁ দিয়ে পাঠশালার পাঠচক্রের ফাকেঁ সবাইকে নিয়ে টিফিন করায় মনটা অনেক ছোট ছিলো। কারণ টানা তিন দিনই পাঠশালায় সবার জন্য বিকেলের টিফিনের চিত্র একই ছিলো। তাই মনের পরিধি কিছুটা ছোট ছিলো। তবে আফরিন জিলানী তিথির সফলতার খবর শুনে মনটা অনেক বড় হয়ে গিয়ে ছিলো। তখন বুঝতে পারছিলাম না আমার দেহ বড় না মন বড়।
সুখবরের পাশাপাশি আফরিন জিলানী তিথির মা সংগ্রামী রওশন আরা রিতা মিষ্টির দাওয়াত দিতে ভুলে যাননি। আমিও কবুল বলেছি। রাতের বেলা যায়নি। তবে সন্তানসম সফল আফরিন জিলানী তিথিকে এক নজর দেখার জন্য নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি।
পরের দিন একা যায়নি। কাফেলায় ছিলো অতিক্ষুদ্র পাঠশালার ৩ শিক্ষার্থী। উদ্দেশ্য মেধার ঘষা মাজা করা। স্বপ্ন দেখানো। তবে ঘুমন্ত স্বপ্ন না। জাগ্রত স্বপ্ন। যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পূর্বে ব্যাক্তিকে ঘুমাতে দেয়না।

তাই ছোটদের আইকন তিথিকে দেখাতে নিয়ে গিয়ে ছিলাম পাঠশালার ৩ শিক্ষার্থীকে। ছোট তিন শিক্ষার্থী মেধাবী তিথির কাছে গল্প শুনেছে। সফলতার গল্প। পরির্দশন করেছে মেধাবী আফরিন জিলানী তিথির রিডিং রুম। পড়ার টেবিল। লেখা পড়ার বিষয়ে বেশ কিছুক্ষন আড্ডা দিয়েছে আইকন তিথির সাথে। এর মধ্যেই ছিলো মিষ্টির ছড়াছড়ি।

প্রথম পর্বে ফটো সেশনের বিঘ্ন ঘটে ছিলো। পরে বিদ্যুতের ব্যবহার ভালো হওয়ায় ফটোসেশন পুষিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দোয়া করেছি মনভরে। আমি মহান আল্লাহর কাছে ভবিষতে তিথির নাম উচ্চারণের পূর্বে সম্মান সূচক জনাব, মাননীয় ও মহামান্য শব্দ ব্যবহারের যোগ্য করে তুলার দোয়া করেছি। তিথির নামের পর সর্বনাম ব্যবহারে প্রোনাউনের মাথায় চন্দ্রবিন্দু চেয়ে দোয়া করেছি। মহান আল্লাহর কাছে তিথির ভবিষৎ মঙ্গল কামনা করেছি। আল্লাহ মেধাবী আফরিন জিলানী তিথিকে ভালো রাখুক। সবার ঘরে ঘরে আইকন তিথির জন্ম হউক। ভালো থাকো মা।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
© কপিরাইট ২০১৭ গণজয়
CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102