বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০২:২৬ অপরাহ্ন

শপিং ব্যাগ তৈরী করে স্বাবলম্বী জামাল

রির্পোটারের নাম
  • খবর আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০২২
  • ২১৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

মোঃ আবু সাইদ,নান্দাইল,(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। ময়মনসিংহের নান্দাইলের বীরবেতাগৈর ইউনিয়নের বীরকামটখালী গ্রামের দরিদ্র জামাল উদ্দিন (৪৩)সিমেন্টের কাগজ (খালি বস্তা) দিয়ে ব্যাগ তৈরী করে এখন স্বাবলম্বী। একসময় তার পরিবারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। কোনভাবেই ঘুরছিলনা তার সংসারের চাকা। এখন ব্যাগ তৈরি করে তার পরিবারে এসেছে স্বচ্ছলতা। তিনি মুক্তি পেয়েছেন দীনতা থেকে। মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে তিনি এখন মাসে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন।

জামাল উদ্দিন জানান, অভাবের তাড়নায়
বাড়ি ছেড়ে বেশ কয়েক বছর তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় হারবাল সেন্টারে কাজ করেছেন। সেখান থেকে জমানো সামান্য পুঁজি নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। স্ত্রী রোকেয়া বেগমের সঙ্গে পরামর্শ করেন।স্ত্রীর পরামর্শ মোতাবেক তারা উভয়েই স্থানীয় দর্জি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সেলাই কাজ শেখেন। জামাল উদ্দিন স্থানীয় বীরকামট খালী বাজারে একটি ছোট কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। স্বামী -স্ত্রী দুইজনই সেলাইয়ের কাজ করতেন। কিন্তু তাদের সামান্য আয়ে সংসার চলতনা।স্ত্রীর পরামর্শে তিনি সিদ্বান্ত নেন সিমেন্টের কাগজ দিয়ে ব্যাগ তৈরীর।

২০০৭ সালে ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যাগ তৈরীর ব্যবসা শুরু করেন।যারা বাজারে কেনাকাটা করতে যান, তাদের প্রত্যেকের ব্যাগ প্রয়োজন হয়। আর তাই বাজারে সিমেন্টের ব্যাগের চাহিদা থাকায় তার ব্যবসা দ্রুত প্রসার লাভ করতে থাকে। প্রথম দিকে তিনি স্থানীয়ভাবে সিমেন্টের কাগজ সংগ্রহ করতেন। কিন্তু তাতে ব্যাগ সরবরাহে দোকানিদের (ব্যবসায়ীদের) চাহিদা মেটানো সম্ভব হতোনা। বেশী ব্যাগ যেন সরবরাহ করা যায় সে লক্ষে তিনি ঢাকার টঙ্গি থেকেসিমেন্টের কাগজ (খালি বস্তা) কিনে আনেন। পিকআপের মাধ্যমে এসব কাগজ আনতে হয়।ভাড়া দিতে হয় ৩ হাজার টাকা। প্রতি গাড়িতে ৮ হাজার পিস সিমেন্টের কাগজ আনা যায়।দাম ৪৫ হাজার টাকা।

জামালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়,তিনি
এবং তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ব্যস্ত সময় পার করছেন। জামাল নিজে সিমেন্টের কাগজ দিয়ে
মেশিনে ব্যাগ সেলাই করছেন।তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ব্যাগের কাগজ প্রস্তুুত করে দিচ্ছেন। জামাল জানান,বাড়িতে সিমেন্টের কাগজগুলো খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হয়। বস্তার সেলাই খুলতে হয়। প্রতিটি কাগজ কাঁচি দিয়ে কেটে দুই ভাগ করা হয়। তারপর স্বামী-স্ত্রী দুইজনই ব্যাগ সেলাইয়ের কাজ করেন।

সেলাইয়ের পর হাতল তৈরী করা হয়। প্রতিটি কাগজ থেকে দুটি ব্যাগ তৈরী হয়।সে হিসেবে আট হাজার সিমেন্টের কাগজ থেকে ১৬ হাজার ব্যাগ তৈরি করা যায়। প্রতিদিন তারা ২০০ ব্যাগ তৈরি করতে পারেন। প্রতি পিস ব্যাগ( ছোট) বিক্রি হয় ৪ টাকা করে।বড় ব্যাগ বিক্রি হয় ৬ টাকা করে।সাধারনত পাইকারিভাবেই তিনি ব্যাগ বিক্রি করেন। প্রতিটি বান্ডেল করা হয় ১২ পিস ব্যাগ দিয়ে। ছোট ব্যাগ ডজন বিক্রি হয় ৪৮ টাকায়। বড় ব্যাগ ডজন বিক্রি হয় ৭২ টাকায়।তিনি ১৬ হাজার ব্যাগ বিক্রি করেন ৮০ হাজার টাকায়। সব খরচ বাদে এখন তার মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা।ব্যাগের চাহিদা অনুযায়ী প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার সিমেন্টের বস্তা কিনে আনতে হয় তাকে। সপ্তাহে তিনদিন তিনি নিজে সাইকেলে করে ব্যাগ সরবরাহ করেন প্রতিটি মনিহারি দোকানে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে তিনি গফরগাঁও, ত্রিশাল ও হোসেনপুরসহ অন্যান্য জায়গায় ব্যাগ সরবরাহ করেন।

জামাল বলেন,এ কাজে আমার স্ত্রী উৎসাহ যুগিয়েছেন এবং সার্বক্ষণিক সহযোগীতা করছেন।রোকেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী কঠোর পরিশ্রমী। ব্যাগ তৈরীর কাজে আমি তাকে সার্বিক সহযোগীতা করছি। আমার স্বামীর স্বপ্ন পূরণে এ কাজকে অনেক দুর এগিয়ে নিতে চাই।

বর্তমানে পরিবারের ছয় সদস্যের ভরণপোষণ করছেন জামাল। তার দুই ছেলে, দুই মেয়ে। বড় ছেলে কওমি মাদ্রাসায় ও মেয়ে ৫ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে। আয় দিয়ে কিনেছেন ২০ শতাংশ জমি। বন্ধক (গিরবী) নিয়েছেন আরও ৩০শতাংশ জমি। একটি গাভী কিনেছেন। প্রতি মাসে ৩ হাজার ৬০০ টাকার দুধ বিক্রি করেন।প্রতি আট হাজার সিমেন্টের বস্তা পরিষ্কার করে প্রায় ১৬০ কেজি সিমেন্ট পান তিনি।আর তা বিক্রি করেন ১২ টাকা কেজি দরে। সিমেন্টের খালি বস্তা পরিষ্কার করে এর ভিতরের যে অবশিষ্ট কাগজ থাকে তাদিয়ে রোকেয়ার এক মাসের রান্নার জ্বালানি হয়ে যায়। পরিবারের প্রতিদিনের খরচ বাদে তিনি এখন অর্থ সঞ্চয় করছেন। জামাল তৃপ্তির হাসি হেসে বলেন,ব্যাগ তৈরীর এ পেশায় এসে আমি স্বাবলম্বী হতে পেরেছি। এক সময় আমার বাড়ি -ভিটে কিছুই ছিলনা। ভাইয়ের বাড়িতে থাকতে হতো। আজ আমার সব হয়েছে। এখন আমার কোনো চাওয়া- পাওয়া নেই। শুধু আমার সন্তানদের শিক্ষিত করতে পারলে নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করব।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন,জামাল পরিশ্রম করে দারিদ্রতা দুর করতে পেরেছে। এটি আমাদের জন্য অনুকরণীয়।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন,জামাল পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতা পেয়েছেন। তার কাজ দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবেন বলে আমি মনে করি।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
© কপিরাইট ২০১৭ গণজয়
CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102