January 21, 2021, 5:53 pm
প্রধান শিরোনাম :
ইসলামপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভিক্ষুক পরিবারের খোঁজ নিলেন ইউএনও  জুমানের নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রনেতাদের উপস্থিতিতে বিজয়ের জন্মদিন পালিত  ফার্মা এন্ড ফার্ম আবুল কালাম আজাদের স্বপ্ন পুরণে কাজন করছে কবিরাজের ঝাড়ঁফুকঁ ছাড়া বিরল রোগে আক্রান্ত খাদিজার ভাগ্যে ২০ বছরেও চিকিৎসা জুটেনি বিপ্লব আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি’র সদস্য মনোনীত সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার ও ক্যামেরা পার্সন হামলার শিকার সাংবাদিক খাদেমুল হক বাবুল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত  বকশীগঞ্জে মায়ের সাথে আশালিন আচারণ করায় ছেলের কারাদন্ড শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী নিশাত আরজু বকশীগঞ্জে ডিজিটাল দিবস পালিত

কবিরাজের ঝাড়ঁফুকঁ ছাড়া বিরল রোগে আক্রান্ত খাদিজার ভাগ্যে ২০ বছরেও চিকিৎসা জুটেনি

রির্পোটারের নাম
  • খবর আপডেট সময় Thursday, January 7, 2021
  • 115 এই পর্যন্ত দেখেছেন

এম শাহীন আল আমীন ॥ বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০ বছর যাবৎ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ভাটি খেওয়ারচর গ্রামের হতদরিদ্র খাদিজা বেগম। একটি প্রতিবন্ধি ভাতা ছাড়া তার ভাগ্যে কোন সুযোগ সুবিধা জুটেনি। অসুস্থ্য শরীর নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবিকা নির্বাহ করছেন খাদিজা বেগম। অর্থ সংকটের কারণে রোগ নিরাময়ে কবিরাজের ঝাড়ঁ ফুকঁ ছাড়া কোন চিকিৎসা পাননি খাদিজা।

জানা গেছে, জামালপুর জেলাবর বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি খেওয়ারচর গ্রামের ৪০ বছর বয়সী খাদিজার বিয়ে হওয়ার কতয়েক বছর পরেই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়। রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার দুই হাতের সব কয়টি আঙ্গুল বাকাঁ হয়ে ছোট হয়ে হাতের তালুর সাথে মিশে যাচ্ছে। দুই হাতও চিকন হয়ে গেছে। দুই পা চিকন ও বাকাঁ হয়ে গেছে। পেট বড় হয়ে গেছে। মুখ ফুলে গেছে। পায়ে শক্তি নেই। দুই হাতের অবস্থাও একই। খাদিজা হাটাঁ চলা করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তাই বিশ বছর যাবৎ বিছানায় শুয়ে থেকেই জীবন কাটাচ্ছেন। একা একা উঠে বসতেও পারেনা। নিজে হাত দিয়ে কিছু খেতেও পারেনা। রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরেই তার স্বামী তাকে তালাকদেন। রোগাক্রান্ত অসহায় হতদরিদ্র খাদিজা কোন উপায় না পেয়ে দিনমজুর বাবার ঘরে ফিরে আসেন। অর্থ সংকটের কারণে দরিদ্র বাবার পক্ষে কোন চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। তবে কবিরাজির ঝাড়ঁ ফুঁক অব্যাহত আছে।

এই অবস্থায় খাদিজার বাবা রহিজ উদ্দিন মারা যায়। এখন খাদিজা ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের হেফাজতে আছেন। খাদিজার দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। আরেকজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। খাদিজার তিন বোনের আর্থিক অবস্থাও খুবই খারাপ।
খাদিজা ও তার মা ভূমিহীন। নিজের থাকার কোন ঘর নেই। ভাই গার্মেন্টেসে চাকুরি করার কারণে স্বপরিবারে ঢাকায় থাকেন। ভাইয়ের খালি ঘরের এক কোনায় বসবাস করেন খাদিজা ও তার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা।

বর্তমানে তাদের আয়ের কোন উৎস নেই। বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেওয়া বয়স্কভাতা বাবদ প্রতি ৬ মাস পর পান ৩ হাজার টাকা ও খাদিজা প্রতিবন্ধীভাতা বাবদ প্রতি ৬ মাস পর পান ৩ হাজার টাকা। খাদিজা ও তার মা মিলে প্রতি ৬ মাস পর সরকারি ভাতা পান ৬ হাজার টাকা। ভাতা থেকে প্রতিমাসে প্রতি জনের মাসিক আয় ৫ শত টাকা। মা মেয়ে ভাতা থেকে দুই জনে পান ১ হাজার টাকা। এক হাজার টাকায় দুই জনের সংসার ও অন্যান্য খরচ চালানো খুবই কঠিন। অনাহারে অর্ধাহারে খাদিজার দিন কাটে। তাই তার পক্ষে উন্নত চিকিৎসাতু দুরের কথা নুন্নতম চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়না। তাই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন খাদিজা।

খাদিজার বৃদ্ধা মা আনায়ারা বেওয়া জানান, একই রকম রোগে আক্রান্ত হয়ে খাদিজার এক ভাই মারা গেছেন। টাকার অভাবে তাকেও চিকিৎসা করাতে পারি নাই। খাদিজাকেও চিকিৎসা করাতে পারছিনা। তাই রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০ বছর বছর যাবৎ কষ্ট করছেন খাদিজা। আনোয়ারা বেওয়া বলেন, খাদিজার চিকিৎসায় আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের বৃত্তমানদের কাছে সহযোগিতা চাই। ভালো চিকিৎসা পেলে খাদিজার শারীরিক অবস্থার পরির্বতন হতে পারে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
© কপিরাইট ২০১৭ গণজয়
CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102